The Ambassador News                                       দি অ্যাম্ব্যাসাডর নিউজ

সকল কণ্ঠের প্রতিনিধি

ফাঁসি হতে পারে ড. ইউনূসের?

দি অ্যাম্ব্যাসাডর নিউজ




সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে আর্থিক অব্যবস্থাপনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিতর্কিত পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি, সাংবাদিক হয়রানি এবং চরম প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারপ্রধান ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মকাণ্ড আইনি পর্যালোচনার আওতায় আনতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামোর পরিপন্থি এসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তার কী ধরনের সাজা হতে পারে, তা নিয়ে জনমনে ও আইনি অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। 

গত ২৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। গতকাল বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি উপস্থাপন করা হলে, আদালত আগামী রোববার এটি কার্যতালিকায় রাখার নির্দেশ দেন। রিটে আইন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও দুই আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। 

আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
রিটের অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ড. ইউনূস বেআইনিভাবে নিজের এবং তার সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে থাকা আয়কর সংক্রান্ত ৩৮টি রিট ও রেফারেন্স মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন, যেখানে কর ফাঁকির পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া তার একটি প্রতিষ্ঠানের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দায় মওকুফের পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লাইসেন্সসহ নানা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা অনুযায়ী সরকারি দায়িত্বে থেকে বিশ্বাসভঙ্গ ও নিজের বা অন্যের জন্য অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। 

সাংবাদিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে। টিআইবি জানিয়েছে, এই সময়ে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২৬৬ জনকে হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, এক বছরে দেশে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং চারজন সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  যদিও এই বিষয়ে কোনো আইনি অভিযোগ এখনও দায়ের করা হয় নি।

একাত্তর টেলিভিশনের শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল বাবু, ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত থেকে শুরু করে শওকত মাহমুদ, শাহনাজ শারমীন ও আনিস আলমগীরের মতো জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের বিভিন্ন হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিনের পর দিন কারাগারে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। 

প্রশাসনিক অবহেলা, মব ভায়োলেন্স ও জনস্বার্থের ক্ষতি
ড. ইউনূস সরকারের চরম অদক্ষতা ও উদাসীনতার অভিযোগ আনা হতে পারে যেকোনোসময়। স্বাস্থ্য খাতের চরম অবহেলার কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে ২৯৪ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে মাজার ভাঙচুর এবং মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগেও দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭ ও ২৯৫ ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

রিটকারীর দাবি, কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। আইনের শাসনের মৌলিক ভিত্তি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে এসব অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া অপরিহার্য। অভিযোগগুলো আদালতের নির্দেশে তদন্তাধীন; তবে আইনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বাধীন কমিশনের তদন্তে সংবিধান পরিপন্থি ও রাষ্ট্রবিরোধী এসব অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেই কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন এই নোবেল বিজয়ী। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১২৪(ক) ধারা অনুযায়ী, আইনত প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য হয়। এর শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডসহ জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর হয়। অর্থাৎ, এধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে ড. ইউনূসের। তবে, কোনো অভিযোগে ফাঁসি হতে পারে কি না সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট হওয়া যায় নি।  যেহেতু, শিশুমৃত্যু, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিক নির্যাতন ইত্যাদি অভিযোগ এখনও আদালতে গড়ায় নি, তাই এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা।

---

নবীনতর পূর্বতন