দি অ্যাম্ব্যাসাডর নিউজ
ওয়াশিংটন ডিসি, ৪ মার্চ:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সোজা কথার জন্য যেমন বিশ্বজুড়ে আলোচিত, ঠিক তেমনি তাঁর খাদ্যাভ্যাসও কম খবরের জন্ম দেয়নি। বিশেষ করে গরুর মাংসের (বিফ) প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা এবং ফাস্ট ফুড প্রীতি সর্বজনবিদিত। অভিজাত রেস্তোরাঁর দামি স্টেক থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের ফাস্ট ফুড চেইনের বিফ বার্গার—গরুর মাংস ট্রাম্পের খাদ্যতালিকায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
'ওয়েল-ডান' স্টেক এবং কেচাপ
মার্কিন এলিট শ্রেণি বা সাধারণ ভোজনরসিকরা সাধারণত 'মিডিয়াম রেয়ার' স্টেক খেতে পছন্দ করলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দ একেবারেই ভিন্ন। তিনি কড়া করে ভাজা বা 'ওয়েল-ডান' (Well-done) স্টেক খেতে ভালোবাসেন। আর সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই দামি স্টেকের স্বাদ বাড়াতে তিনি ব্যবহার করেন প্রচুর পরিমাণে টমেটো কেচাপ! হোয়াইট হাউসের রাঁধুনি থেকে শুরু করে ওয়াশিংটনের বিখ্যাত 'বিএলটি প্রাইম' রেস্তোরাঁর কর্মীরা একাধিকবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের জন্য স্টেক এতটাই কড়া করে ভাজতে হয় যেন তা প্রায় পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়।
ফাস্ট ফুড ও বিফ বার্গার প্রীতি
গরুর মাংসের প্রতি তাঁর ভালোবাসার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো ম্যাকডোনাল্ডস, ওয়েন্ডিজ বা বার্গার কিংয়ের মতো ফাস্ট ফুড ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি তাঁর তীব্র আসক্তি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর ব্যক্তিগত বিমানে (ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান) ম্যাকডোনাল্ডসের 'বিগ ম্যাক' (Big Mac) বা 'কোয়ার্টার পাউন্ডার উইথ চিজ' (Quarter Pounder with Cheese) খাওয়ার ছবি একাধিকবার ভাইরাল হয়েছে।
২০১৯ সালে হোয়াইট হাউসে কলেজ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন 'ক্লেমসন টাইগার্স' দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় সরকারি শেফদের ছুটির কারণে তিনি নিজের পকেট থেকে ম্যাকডোনাল্ডস, ওয়েন্ডিজ এবং বার্গার কিং থেকে ৩০০টিরও বেশি বিফ বার্গারসহ বিপুল পরিমাণ ফাস্ট ফুড কিনে এনে অতিথিদের আপ্যায়ন করেছিলেন।
কেন এই ফাস্ট ফুড প্রীতি?
লেখক মাইকেল উলফ তাঁর 'ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি: ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউস' বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের এই ফাস্ট ফুড প্রীতির পেছনে তাঁর জীবাণুভীতি (Germaphobia) কাজ করে। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, বড় ফাস্ট ফুড চেইনগুলোর খাবার আগে থেকেই প্রস্তুত করা থাকে এবং সেখানে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা হয়, তাই বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
সব মিলিয়ে, বয়স আশি ছুঁই ছুঁই হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রমাণ করেছেন যে স্বাস্থ্যকর ডায়েট বা পুষ্টিবিদদের নিয়মের তোয়াক্কা না করেও তিনি তাঁর প্রিয় গরুর মাংস ও ফাস্ট ফুড নিয়েই বহাল তবিয়তে রাজনৈতিক মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে পারেন।
তথ্যসূত্র (References):
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (The New York Times): ট্রাম্পের 'ওয়েল-ডান' স্টেক এবং কেচাপ খাওয়ার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন।
সিএনএন (CNN): ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউসে ফুটবল টিমকে ফাস্ট ফুড ও বার্গার দিয়ে আপ্যায়নের সংবাদ।
টাইম ম্যাগাজিন (Time Magazine): ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ডায়েট এবং প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত কভার স্টোরি।
বই - ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি (Fire and Fury by Michael Wolff): ট্রাম্পের জীবাণুভীতি এবং ম্যাকডোনাল্ডসের প্রতি আস্থার পেছনের মনস্তত্ত্ব।